বিশেষ প্রতিনিধি:
নিজ সরকারি কার্যালয়ে বসে মদ কেনার টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের এমন কাণ্ডে পুরো প্রশাসন ও জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত তার নিজ কক্ষে বসে কেরু অ্যান্ড কোম্পানিসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের মদ সম্পর্কে আলোচনা করছেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের মানিব্যাগ থেকে তিন হাজার টাকা বের করে মদ কেনার উদ্দেশ্যে অন্য একজনের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
কেবল কার্যালয়ে বসে মদের জন্য টাকা লেনদেনই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত মাদক সেবনেরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন দায়িত্বশীল ও পদস্থ কর্মকর্তা কীভাবে দাপ্তরিক কক্ষে বসে মদ কেনার মতো অবৈধ কাজের জন্য টাকা লেনদেন করতে পারেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া, মদ লেনদেনের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মেরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারীদের দাবি, সম্প্রতি টাঙ্গাইল পৌরসভার কয়েকজন ঠিকাদার কোনো ধরনের কাজ না করেই বিল উত্তোলনের জন্য এই কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছেন।
এদিকে, ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং আনীত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।